রোজা ইসলামের কততম স্তম্ভ

ভূমিকা: রোজা ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ রোজাকে আরবি ভাষায় সাওম বলে। সাও্ম এর আভিধানিক অর্থ হলো বিরত থাকা। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় সাওম হলো - সুবহে - সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিয়তের সাথে পানাহার ও ইন্দ্রীয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকা কে সাওম বলে। 
রোজা-ইসলামের-কততম-স্তম্ভ



প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্তক নারী ও পুরুষের উপর রমজান মাসের এক মাসে সাওম পালন করা ফরজ। শাওম শুধু আমাদের মাঝে একটি মাসের জন্যই আসে, এ একটি মাস আমাদের প্রত্যেকটি পুরুষ এবং নারীদের সাওম পালন করা প্রয়োজন। 

সূচিপত্রঃ

সাওমের নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষাঃ

সাও্ম কেবল আমাদের ওপরে ফরজ নয়। বরং পূর্বের নবী রাসুলের উম্মতের উপর ও ফরজ ছিল। এর মাধ্যমে শাওম পালনকারীর আত্মিক উৎকর্ষ সাধিত হয়। সাওমের মাধ্যমে মানুষের মনে তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি ভয় করে আমারা কিছু পানাহার করিনা।


আমরা তাকওয়া অর্জনের জন্য রমজান মাসে সিয়াম পালন করব। মানুষ লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ ও কামভাবের বশবর্তী হয়ে অনেক মন্দ কাজে লিপ্ত হয়। সাওম মানুষকে এসব কাজ থেকে মুক্ত থাকতে শেখায়। সাওম হলো কোন ব্যক্তি ও তার মন্দ কাজের মাঝে ঢাল স্বরূপ। সর্বোপরি সাওম পালনের মাধ্যমে দৈহিক, মানসিক ও আত্মিক প্রশান্তি অর্জিত হয়।


সিয়াম সাধনার ফলে সমাজের লোকদের মাঝে পারস্পারিক সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়। সাওম পালন করে এরূপ ব্যক্তি ক্ষুধার্ত থাকার ফলে সে অন্য আরেকজন অনাহারের ক্ষুধার জ্বালা সহজে বুঝতে পারে। ক্ষুধা ও পিপাসার যন্ত্রণা যে কিরূপ পীড়াদায়ক হতে পারে তা সে উপলব্ধি করতে পারে। এতে অসহায় নিরন্ন মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সহমর্মিতার ভাব জাগ্রত হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন এ মাস সহানুভূতির মাস।

সাওমের ধর্মীয় গুরুত্বঃ

সাওম অসহায় ও দরিদ্রকে দান করতে উদ্বুদ্ধ করে। রমজান মাসে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) অন্যদের দান সদকা করতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেছেন, তিনি নিজেও তেমনি ভাবে খুব দান সদকা করতেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ লোকদের মধ্যে অধিক দানশীল ছিলেন। বিশেষ করে রমজান এলে তার দানশীলতা আরো বেড়ে যেত।

ধর্মীয় দিক থেকেও সাওমের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। সকল সৎ কাজের প্রতিদান আল্লাহ ১০ গুন থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেবেন। কিন্তু সাওমের প্রতিদান সম্পর্কে হাদিসে রয়েছে আল্লাহ তায়ালা বলেন সাও্ম আমার জন্য আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব । যেহেতু সাওয়াবের আশায় আল্লাহের
 উদ্দেশ্যে সাওম পালন করা হয়। 


সেহেতু আল্লাহ তাআলার রোজাদারের পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেন। মহানবী (সাঃ) বলেছেন যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ওর সাওয়াবের আশায় রমজান মাসের রোজা রাখে আল্লাহ তা'আলা তার পূর্বে সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেন। এটি একটি মৌলিক ফরজ কাজ। যদি কেউ তা অস্বীকার করে তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে।

সাওমের সামাজিক  গুরুত্বঃ

সাওম পালনের মাধ্যমে একজন লোক ক্ষুধার যন্ত্রণা উপলব্ধি করতে পারে। সমাজের নিরন্ন ও অভাবীদের প্রতিসহানুভূতি প্রকাশ করতে পারে। সাওম পালনকারী ব্যক্তি অন্যায় অশ্লীল কথাবার্তা পরিহার করে চলে। হানাহানি থেকে দূরে থাকে। ফলে সমাজে শান্তি বিরাজ করে। অধিক সাওয়াব পাওয়ার আশায় একে অপরকে সাহারি ও ইফতার করায় ।

অভাবিকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে। এতে পরস্পরের মধ্যেও ভাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক বন্ধন আরো মজবুত ও শক্তিশালী হয়। সুতরাং আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় আমাদের সাওম পালন করা উচিত আমরা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে সাওম পালন করব। আল্লাহ তাআলা বলেন হে ঈমানদারগণ তোমাদের উপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে।

যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপরও ফরজ করা হয়েছিল যাতে তোমরা আল্লাহ ভীরু হতে পারো ।আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাসটি পাবে সে যেন সিয়াম পালন করে আর যে অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য সময় পূরণ করবে। এই রমজান মাসটি প্রত্যকের জন্য অনেক মূল্যবান মাস।

সিয়ামঃ

রোজা-ইসলামের-কততম-স্তম্ভ



ইসলামের একটি অন্যতম প্রধান স্তম্ভ সিয়াম। আমরা সিয়ামকে সাধারণতঃ রোজা বলে থাকি। কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছি, এটা বলা সঠিক হচ্ছে কিনা! একটু বেমানান মনে হলেও সত্য যে, সিয়ামকে সিয়ামই বলতে হব্‌ রোজা বলা যাবেনা। সিয়াম অর্থ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী সহবাস সহ যাবতীয় অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা।

আর রোজা অর্থ একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত না খেয়ে উপবাস থাকা। মুসলিমদের সিয়াম আর অমুসলিমদের রোজা (উপবাস)। তাহলে একটু ভেবে দেখুন সিয়ামকে সিয়াম বলবেন নাকি রোজা বলবেন! সিয়ামকে আমরা অবশ্যই সিয়ামই বলবো রোজা বলে আমাদের সারাদিনের এই সবকিছু থেকে বিরত থাকার সাওয়াব থেকে বাতিল হব না।


সিয়াম কে সিয়াম বলে যদি সারাদিনের খাটুনি এবং ক্ষুদার্থ পরিশ্রম করা সফল হয় তাহলে আমরা সিয়াম কে সিয়াম বলব রোজা বলে আমাদের সারাদিনের খাটুনি এবং ক্ষুধার্ত পরিশ্রম বৃথা যেতে দেবো না কারণ ক্ষুধার্ত থাকাটা কতটা কষ্টের হয় সেটা শুধু একমাত্র ক্ষুধার্ত ব্যক্তি বলতে পারবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের ক্ষুধার্ত সম্পর্কে এবং ক্ষুধার্থীদের সম্পর্কে জানার জন্য এই সিয়াম টা আমাদের জন্য ফরজ করেছে।

সিয়াম ভঙ্গের কারণঃ

ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে কিংবা যে কোন ভাবে ইন্দ্রিয় তৃপ্তি করলে সিয়াম ভঙ্গ হয়। এটাই সিয়াম ভঙ্গের অন্যতম কারণ। সিয়াম অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে সিয়াম ভঙ্গ হয়। তবে অনিচ্ছাকৃত বমি হলে, শরীর থেকে রক্ত বাহির হলে, ভুলক্রমে কিছু খেলে বা পান করলে , স্বপ্নদোষ হলে বা সহবাস জনিত নাপাকি অবস্থায় সকাল হয়ে গেলে , মিসওয়াক করলে সিয়াম ভঙ্গ হয় না।

 শরীল সবল - সতেজ করেনা বা ক্ষুদা - তৃষ্ণা নিবারণ করে না । এমন ইনজেকশন অসুস্থতার কারণে নেওয়া যেতে পারে। এমন অবস্থায় যদি ইনজেকশন নেওয়া হয় তাহলে সিয়াম ভঙ্গ হবে না। সিয়াম ভঙ্গের কারণগুলো নিশ্চয়ই আপনারা বুঝতে পারছেন। 

তবে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সিয়াম ভঙ্গ করেন বা ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার বা ইন্দ্রিয় তৃপ্তি মেটালে আপনার সিয়াম হবে না । এর ফলস্বরূপ আপনার জন্য শাস্তি রয়েছে সিয়াম আল্লাহ তায়ালার একটি ইবাদত আপনি যদি ইবাদতে ফাঁকি দেন তাহলে শাস্তি অবশ্যই পাবেন । সিয়ামরত অবস্থায় বিশেষ কারণ ছাড়া কখনো সিয়াম নষ্ট করবেন না।

সিয়ামের কাফফারাঃ

সিয়াম ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ। শরীয়ত সম্মত কারণ ব্যতীত সিয়াম পালন না করলে অথবা রোগব্যাধি বার্ধক্য ইত্যাদি কারণে সিয়াম পালন সম্ভব না হলে সিয়ামের কাফফারা করতে হবে। একটি সিয়ামের কাফফারা একটানা দুই মাস সিয়াম পালন অথবা ৬০ জন মিসকিনকে পরিপূর্ণভাবে দুবেলা খাওয়ানো। তবে অসুস্থ ব্যক্তির সুস্থতার সম্ভাবনা থাকলে সুস্থ হওয়ার পর ফরজ সিয়াম পালন করতে হবে।

এক্ষেত্রে কাফফারা প্রযোজ্য হবে না। যা বলা যেতে পারে এক্ষেত্রে কোন কাফফারা দিতে হবে না আর যদি সুস্থ থেকে সিয়াম না রাখে তাহলে কাফফারা দিতে হবে এবং সুস্থ ব্যক্তির জন্য সিয়াম একদমই ফরজ এটা বাধ্যতামূলক থাকতেই হবে। যদি এটা না থাকে তাহলে তার ফলস্বরূপ পরকালে সে কঠোর শাস্তি পাবে।

সিয়ামের ফজিলতঃ

রোজা-ইসলামের-কততম-স্তম্ভ



রাসুল (সাঃ)বলেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় সিয়াম পালন করে তার পূর্বের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয় । (বুখারী ১৯০১। রাসুল (সাঃ)বলেন, সিয়াম ( জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢালস্বরূপ )( বুখারী )।

রাসুল (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি রামাযানের সিয়াম পূর্ণ করল সে যেন সদ্য প্রসুত শিশুর ন্যায় হয়ে গেল (মুসলিম)। প্রত্যক আমলের প্রতিফল ১০ থেকে ৭০০ গুন বা তারও অধিক। কিন্তু সিয়ামের প্রতিফল আল্লাহর নিজ হাতে দিবেন ( বুখারী ,মুসলিম , মিশকাত ১৯৫৯ )।

সাহারিঃ

সিয়াম পালনের জন্য সাহারি খেতে হবে, কেননা তাতে বরকত রয়েছে ( বুখারী ১৯২৩ ;মুসলিম ১০৯৫ )। সাহারি হিসাবে এক ঢোক পানি বা একটি খেজুর হলেও খেতে হবে ( সহি আত তারগিব ১০৭১ )। রাসুল বেজোড় সংখ্যক খেজুর দ্বারা সেহরি ও ইফতার শুরু করতেন। সেহরি খেয়ে ফজর হওয়ার পূর্বেই নিয়াত করতে হবে ( সুনানে আবু দাউদ ২৪৫৪; সুনানে তিরমিজি ৭৩০ )।

অবশ্য ওজরবশতঃ কোন কিছু না খেয়ে শুধু নিয়ত করলে সিয়াম হয়ে যাবে। নিয়ত বলতে গধ বাধা কোনো বাক্য পাঠ করা নয়, বরং অন্তরে সংকল্প বা ইচ্ছা পোষণ করা গধ বাধা নিয়ত বাক্য পাঠ করা বিদআত।

রাসুল (সাঃ) বলেন, খাদ্য বা পানির পাত্র হাতে থাকা অবস্থায় তোমাদের কেউ ফজরের আজান শুনলে সে যেন প্রয়োজন পূর্ণ করা ব্যতীত পাত্র রেখে না দেয় ( সুনানে আবু দাউদ, মিশকাত-১৯৮৮)। উল্লেখ্য যে, নফল সিয়ামে দিনের বেলা নিয়ত করলে কোন অসুবিধা নেই।

ইফতার ও ইফতারের দোয়াঃ

সূর্য অস্ত্র হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করতে হবে। রাসূল (সাঃ) বলেন, মানুষ ততদিন কল্যাণের মধ্যে থাকবে যতদিন তারা তাড়াতাড়ি ইফতার করবে ( মুসলিম-১০৯৮ )। তিনি আরো বলেন দিন ততদিন পর্যন্ত বিজয়ী থাকবে যতদিন মানুষ ইফতার তাড়াতাড়ি করবে। কেননা ইহুদী-নাছারারা দেরিতে ইফতার করে ( সুনানে আবু দাউদ -১৩৫৫;সুনানে ইবনে মাজহা, মিশকাত-১৯৯৫ )।

ইফতারের দোয়াঃ বিসমিল্লাহ বলে ইফতার শুরু করে ইফতার শেষে আলহামদুলিল্লাহ পাঠ করবে। তবে ইফতারের পূর্বে এই দোয়া পড়া যায়ঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি আস আলুকা বি-রহ;মাতিকাল্লাতি ওয়াসিয়াত কুল্লাহ শাইন আন্তাগফিরালি। অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার যে রহমত সবকিছু বেষ্টন করে আছে তার মাধ্যমে প্রার্থনা করছি তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও ।

ইতিকাফ বা ফিতরাঃ

ইতিকাফঃ রমজানের শেষে ১০ দিন সার্বক্ষণিক মসজিদে অবস্থান করে ইবাদত বন্দেগী করার নাম ইতিকাফ। রাসুল (সাঃ) প্রত্তক রমজানে ইতিকাফ করতেন। নিরাপত্তা ও পর্দার ব্যবস্থা থাকলে মহিলারাও  ইতিকাফ করতে পারবে। ইতিকাফের জন্য মসজিদ শর্ত, তবে রমজান বা সিয়াম শর্ত নয়। রমজান ছাড়াও ইতিকাফ করা যায়।

ফিতরাঃ রাসূল (সাঃ) বলেন, প্রত্যক মুসলিম নর - নারী , ছোট বড়, স্বাধীন ও ক্রীতদাসের ওপর এক ছা খেজু্‌র জব অথবা খাদ্যবস্তু সদকায়ে ফিতর হিসেবে আদায় করা ফরজ। এবং তা ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে। এক "ছা" সমান ২ সের ১২ ছটাক, প্রায় আড়াই কেজির সমান। ঈদের সালাতের পূর্বে জন্মগ্রহণকারী শিশুর ফিতরা দিতে হবে, কিন্তু মৃত্যুবরণ কারীর ফিতরা দিতে হবে না ফিতরা হকদার দরিদ্র মানুষ। প্রচলিত আধা "ছা" হিসাব মত নয়।

মুয়াবিয়া (রাঃ) এর খিলাফত কালে সিরিয়া থেকে গম আমদানি করাই উচ্চমূল্যের বিবেচনায় তিনি গমের আধা "ছা" হিসাবে ফিতরা দিতে বলেন । কিন্তু সাহাবী আবু সাঈদ খুদ্রি (রাঃ) সহ অন্যান্য সাহাবীগণ তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং প্রথম যুগের ওপর বলবৎ থাকেন। ঈদের সালাতে যাবার আগে ফিতরা আদায় করতে হবে। ফিতরা স্ব স্ব খাদ্যদ্রব্য দ্বারা দিতে হবে । টাকা দ্বারা ফিতরা আদায় সহিহ , যাঈফ এমনকি জাল কোন হাদিস পাওয়া যায় না।

নফল সিয়ামঃ

রমজানের ফরজ সিয়ামের পর শাওয়াল মাসের ছয়টি নফল সিয়াম অন্তত ফজিলতপূর্ণ। রাসুল (সাঃ)বলেন, যে ব্যক্তি রমজান মাসের সিয়াম পালন করতোঃ শাওয়াল মাসে ছয়টি সিয়াম পালন করল সে যেন সারা বছর সিয়াম পালন করল। প্রতি চান্দ্রমাসের ১৩,১৪,১৫ তারিখে ( আইয়ামে বীজের ) সিয়াম। রাসূল (সাঃ) বলেন প্রতি চন্দ্রমাসে ১৩, ১৪ , ১৫ তিনটি করে সিয়াম সারা বছর ধরে সিয়াম পালনের শামিল। 

মহররম মাসে (৯ ও১০ অথবা ১০ ও ১১ তারিখে) আশুরার সিয়াম পালন করতে হয়। রাসুল (সাঃ)বলেন আল্লাহ আশুরার সিয়াম পালনকারীর এক বছর পূর্বের গুনাহ সমস্ত মাফ করে দেন। জিলহজ মাসের প্রথম থেকে নবম তারিখ পর্যন্ত সিয়াম পালন করা। সম্ভব না হলে আরাফার দিনে সিয়াম পালন করা। রাসূল (সাঃ) বলেন যে ব্যক্তি আরাফার দিনে সিয়াম পালন করবে আল্লাহ তার এক বছরের আগের ও এক বছর পরের (সগিরা) গুনাহসমূহ মাফ করে দিবেন।

সপ্তাহে প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার সিয়াম পালন করা। রাসূল (সাঃ) বলেন সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমলসমূহ আল্লাহর নিকট পেশ করা হয়। তাই আমি চাই সিয়াম অবস্থায় আমার আমল পেশ করা হোক। সপ্তাহে এই দুইদিন সিয়ামের অনেক সওয়াব রয়েছে এই দুই দিন অনেক মূল্যবান।

শেষ কথাঃ

আমাদের প্রত্যেকের উচিত আল্লাহর দেখানোর পথ অনুসরণ করা এবং তার ইবাদত করা এবং সকল ফরজ সিয়াম ও নফল সিয়াম পালন করা । যদি সঠিক ও সুস্থভাবে আল্লাহর ইবাদত করতে পারি তাহলে পরকালে অবশ্যই ভালো ফল পাবো।

তাই আমরা প্রত্যেকে আল্লাহর ইবাদত করব এবং আল্লাহ ও নবী রাসূলগণের দেখানো পথ অনুসরণ করে চলবো । খারাপ ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকবো এবং সর্বদা সৎ পথে এবং ভালোভাবে থাকার চেষ্টা করব।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url