আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা বিছানায় ঘুমাতে যাওয়ার পর সারাদিনের ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভেবে পার করে দেন। একেই বলে ‘ওভারথিংকিং’ বা অতিরিক্ত চিন্তা। এটি আমাদের মানসিক শান্তির পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতাও কেড়ে নেয়। আজকের পোস্টে আমরা জানবো কীভাবে সহজ কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে এই অতিরিক্ত চিন্তা করা বন্ধ করা যায়।
১. বর্তমান মুহূর্তে বাঁচতে শিখুন (Live in the Present)
অতিরিক্ত চিন্তার মূল কারণ হলো অতীত বা ভবিষ্যৎ। অতীতকে আপনি বদলাতে পারবেন না, আর ভবিষ্যৎ আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই বর্তমানে আপনার সামনে যে কাজটি আছে, সেটিতে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিন। একে মনোবিজ্ঞানীরা 'Mindfulness' বলেন।
২. ২-মিনিটের নিয়ম ব্যবহার করুন
যদি কোনো সমস্যা আপনাকে খুব বেশি ভাবিয়ে তোলে, তবে নিজেকে ২ মিনিট সময় দিন। এই ২ মিনিটে চিন্তা করুন—"এই সমস্যাটির কি কোনো সমাধান এই মুহূর্তে আমার কাছে আছে?" যদি উত্তর 'হ্যাঁ' হয়, তবে কাজে নেমে পড়ুন। আর উত্তর 'না' হলে, চিন্তা করা বন্ধ করে অন্য কাজে মন দিন।
৩. গভীর শ্বাস নিন (Deep Breathing)
যখনই মনে হবে চিন্তা আপনার মাথার ওপর ভর করছে, তখনই চোখ বন্ধ করে বুক ভরে লম্বা শ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে ছাড়ুন। এভাবে ৫-১০ বার করুন। এটি আপনার মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে মনকে শান্ত করতে সাহায্য করবে।
৪. ডায়েরি লেখার অভ্যাস করুন
মাথার ভেতর জট পাকিয়ে থাকা চিন্তাগুলো কাগজের পাতায় লিখে ফেলুন। যখন আপনি আপনার সমস্যা বা চিন্তার কারণগুলো ডায়েরিতে লিখবেন, তখন দেখবেন মাথা অনেকটাই হালকা হয়ে গেছে এবং অনেক সমস্যার সমাধান নিজে নিজেই চোখের সামনে ভেসে উঠছে।
৫. নিজেকে ব্যস্ত রাখুন
অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা—এ কথাটি ওভারথিংকিংয়ের ক্ষেত্রে ১০০% সত্যি। যখনই ফ্রি থাকবেন, পছন্দের কোনো বই পড়ুন, গান শুনুন, ঘর গোছান অথবা পছন্দের কোনো শখের কাজ করুন। মস্তিষ্ক অন্য কাজে ব্যস্ত থাকলে ফালতু চিন্তা করার সময় পাবে না।
শেষ কথা: মনে রাখবেন, রাতারাতি ওভারথিংকিং বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে প্রতিদিন এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো অনুশীলন করলে আপনি অবশ্যই একটি শান্ত ও সুন্দর মন উপহার পাবেন।

Comments
Post a Comment